ক্রেডিট কার্ড কী, কেন , কীভাবে কাজ করে, বাংলাদেশের কোন ক্রেডিট কার্ডটা সবচেয়ে ভালো? কেন ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীরা ১২% বেশী খরচ করে?
বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে যেসকল বিষয় আপনার মাথায় রাখতে হবে।
ক্রেডিট কার্ড পার্সোনাল ফাইন্যান্স এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি এটি ব্যববহার করেন, করতে চান, কিংবা এটাকে পছন্দ করেন না; সে যাই হোক না কেন আপনাকে জানতে ক্রেডিট কার্ড সম্পর্ক। ব্যবহার করলে কেন ব্যবহার করবেন, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কীভাবে করবেন, কোন পর্যায়ে ক্রেডিট কার্ডটি বন্ধ করে দিলে আপনার জন্য ভালো হবে । আর ব্যবহার না করলেও বিষয়টি সম্পর্কে জেনে রাখা ভালো কেননা এর বিভিন্ন ফিচারগুলো যেগুলো আছে সেগুলো আপনার আসলেই না হলেও চলে কী না কিংবা বিকল্প কিভাবে আপনি সে সুবিধাগুলো পাবেন তাতো আপনাকে ঠিক করে রাখতে হবে।
ক্রেডিট কার্ড বিষয়ে আমার নিজের অভিজ্ঞতা
তো ক্রেডিট কার্ড বিষয়ে আমার Student Life থেকেই আগ্রহ ছিল। এটার বিভিন্ন সুবিধা যেমন ডিসকাউন্ট, ইএমআই, বিশেষত অনলাইনে বিদেশ হতে কেনাকাটা। কিন্তু, Professional Life এ প্রবেশ করার বেশ কিছুদিন পরও আমি ক্রেডিট কার্ড নেইনি। মূলত এটির বিষয়ে একটি নেগেটিভ ধারণা থেকে নেয়া হয়নি। যাহোক, পরবর্তীতে মূলত ডুয়েল কারেন্সি ক্রেডিট কার্ডের বিভিন্ন সুবিধার কথা চিন্তা করে এটির প্রতি আমার আগ্রহ অনেক বেড়ে যায়। তাছাড়া, বিভিন্ন ব্যাংক একটা সুবিধা চালু করে যে, ক্রেডিট কার্ডে ১৮(আঠার) টা transaction করলে বছরের যে ফি সেটা মাফ। তো এখন তো বিকাশেও মোবাইলে রিচার্জ করে ১৮(আঠার) টা transaction খুব সহজেই করা যাবে। এ সকল বিষয় চিন্তা করে কয়েক বছর ধরে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার শুরু করি। যদিও সে ১৮(আঠার) টা transaction এর সুবিধা এখন ব্যাংকগুলো বাদ দিয়ে দিচ্ছে।
মানুষের মধ্যে আমি ক্রেডিট কার্ড বিষয়ে যে ধারণা পেয়েছি
যাহোক, ক্রেডিট কার্ডের প্রতি দীর্ঘদিনের আগ্রহ, বেশ কিছুদিন এর বিষয়ে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা এবং এরপর নিজের প্রয়োজন বিবেচনা করে নেয় এ দীর্ঘ প্রায় ১০(দশ) সময়ের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড বিষয়ে আমার যে বাস্তব অভিজ্ঞতা Practical Experience হয়েছে তা হলো ক্রেডিট কার্ড এর core concept বিষয়ে আসলে বেশীরভাগ মানুষই জানে না বা জানার চেষ্টা করে না। আমি যখন কার্ড সিদ্ধান্ত নিলাম তখন অনেকের সাথেই পরামর্শ করেছি। কেউ বলেছে নেন, এটা খুব ভালো ডিসকাউন্ট পাওয়া যায়। কেউ কেউ ছিল যারা নিজেরা কিছুদিন ব্যবহার করে বন্ধ করে দিয়েছে তারা বলেছে ভুলেও এ জিনিস নিবেন না ব্যাংক ইচ্ছামত টাকা পয়সা আপনার কার্ডে চার্জ করবে, ব্রাঞ্চে গিয়েও কোন সমাধান পাবেন না, এই ইন্টারেস্ট সেই চার্জ এগুলো দিতে দিতেই ফতুর হয়ে যাবেন। আবার যাদের টাকা পয়সা একটু ভালো আছে তারা মনে হলো তেমন একটা জানার প্রয়োজনই মনে করে না এ বিষয়টা নিয়ে; একাধিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে আর মাস শেষে বিল দিয়ে দেয় এই।
মধ্য আয়ের মানুষের মধ্যে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী হলেও নেতিবাচক ধারণা পেয়েছি
মধ্য আয়ের মানুষ যাদের আমি পেয়েছি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে বেশীরভাগই নিজে কার্ড ব্যবহার করলেও কিছুটা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে যা আমার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি।
ক্রেডিট কার্ড বিষয়ে এ লিখার উদ্দেশ্য
তো, যাই হোক, আমার এ লিখার মূল উদ্দেশ্য হলো আমার ১০(দশ) বছরের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা ও জানা থেকে ক্রেডিট কার্ডের মূল বিষয়গুলো (Core Concept) গুলো তুলে ধরা যাতে অপর একজন এ বিষয়ে সহজে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। ক্রেডিট কার্ড বিষয়ে আমাকে যেভাবে Hard Way তে অনেক সময় ব্যয় করে শিখতে হয়েছে তা যাতে অন্যরা এত সময় ব্যয় না করে সহজে জানতে পারে। “ইস! যদি কেউ আমাকে এ বিষয়ে এভাবে গুছিয়ে বলতো?” এ অনুভুতি থেকেই লিখা। আমি আপনাকে এ লিখাতে ক্রেডিট কার্ড নিতেও বলবো না, না নিতেও বলবো না শুধু এর সাথে সম্পর্কিত যে যে বিষয় আপনার মাথায় রাখা দরকার তা বলবো।
ক্রেডিট কার্ড কী?
ক্রেডিট কার্ড কী এটা বলার আগে বলে নেই ডেবিট কার্ড সম্পর্কে। যেহেতু ডেবিট কার্ড সম্পর্কে অধিক মানুষ জানে। ডেবিট কার্ডকে মূলত এক ধরণের চেক ধরা যায়, তাই না। কারণ আপনার একাউন্টে আপনি টাকা জমা করে এসেছেন এখন চেক দিয়ে কাউন্টারে গিয়ে লাইন ধরে যাতে টাকা তোলা না লাগে তাই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আপনার হাতে একটা কার্ড ধরিয়ে দেয়া হয়েছে, যেটা দিয়ে আপনি মেশিন থেকে ক্যাশ টাকাও তুলতে পারবেন আবার দোকানদারের কাছে মেশিন থাকলে কার্ড ঢুকিয়ে আপনার একাউন্ট থেকে বিক্রির টাকা নিতে পারবে।
এবার আসি ক্রেডিট কার্ডে। তো, ক্রেডিট কার্ডকেও আপনি একই পদ্ধতিতে চিন্তা করতে পারেন। তবে এখানে ব্যাংক আপনাকে বলছে, কোন একাউন্ট খুলে তাতে টাকা রেখে কার্ড নেয়া লাগবে না। ব্যাংকই একটা কার্ড আপনাকে দিচ্ছে কোন একাউন্ট বা টাকা জমা করা ছাড়াই এবং সাথে দিয়ে দিচ্ছে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার লিমিট যা দিয়ে যখন প্রয়োজন হবে খরচ করবেন, আর মাস বা নির্দিষ্ট সময় শেষে আপনি লিমিটের কত টাকা খরচ করেছেন ব্যাংক আপনাকে জানিয়ে স্ট্যাটমেন্ট পাঠিয়ে দিবেন আপনি শুধু খরচের টাকাটা দিয়ে দিলেই চলবে। তো দারুণ সুবিধা তাই না?
সংজ্ঞা:
বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন মতে প্লাস্টিক বা ভার্চুয়াল কার্ড যাতে revolving credit facility থাকে।
কে ইসু করতে পারবে:
সিডিউল কমার্সিয়াল ব্যাংক ইসু করবে।
পক্ষসমূহ:
Cardholder: যিনি কার্ডটি ব্যবহার করেন
, Card Issuer: যে ব্যাংক কার্ডটি ইসু করে
, Merchant: যে দোকানে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণ করা হয়, Merchant Acquiers: দোকানদারকে ক্রেডিট কার্ডের মেশিনটি যে দিয়েছে, Credit Associations: ভিসা, মাস্টারকার্ড, এমেক্স
ডেবিট কার্ড দিয়েই তো আমি কাজ করতে পারি, ক্রেডিট কার্ড কেন নিব?
হ্যা পারেন, অনেক তাই করেও। আমাদের দেশে এখনও মানুষ পুরোপুরি Perfonal Finance Management বিষয়ে সচেতন না তবে ধীরে ধীরে হচ্ছে। অনেকেই টাকা সেভিংস কিংবা কারেন্ট একাউন্টে ফেলে রাখে। কিছুদিন আগেও আমাদের দেশে সেভিংস একাউন্টে ৩-৫% ইন্টারেস্ট রেট ছিল তাই কিছুটা হলেও সেভিংসে টাকা রেখে Benefit ছিল। বর্তমানে সেভিংসে প্রায় ০ এবং এফডিআরেই ২-৫% অফার করছে ব্যাংকগুলো। তো আপনার কষ্টের টাকা আপনি তো আর বিনা কারণে idle ফেলে রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ না। বরং বিনিয়োগের জায়গা বের করে টাকা হাতে আসামাত্র বিনিয়োগ করলে একদিন আগে করলে একদিনের সুবিধা পাওয়া যাবে।
ক্রেডিট কার্ডের বিজনেস মডেল – ব্যাংকগুলো কেন আমাকে এত এত সুবিধা দিবে?
যে কোন সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই এ বিষয়টি জেনে নিবেন যে, whats in it for them? কেননা সুবিধা ছাড়া কেউ কিছু অফার করে না তাই না, আর তাছাড়া, নিজের সুবিধা বা benefit ছাড়াই যদি কেউ কিছু অফার করে তাহলে সেটা একটা scam হবার সম্ভাবনাই অনেক বেশী। এটা কিন্তু Personal Finance এর খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।
তো আমাদেরও তো জানতে হবে ব্যাংগুলো কেন ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে এত এত সুবিধা আমাদের দিচ্ছে। যদি ব্যাংকের কোন সুবিধা পাওয়া না যায় তবে ক্রেডিট কার্ডও নিশ্চয়ই একটা scam যারা কিছুদিন ব্যবহার করে উল্টাপাল্টা ইন্টারেস্ট আর চার্জের কথা বলেছে তারা নিশ্চয়ই তাহলে ঠিক বলছে? চলুন জেনে নেই:
না, ব্যাংকগুলোর ক্রেডিট কার্ড কোন scam নয়। ক্রেডিট কার্ডে আপনি যখন কেনাকাটা করেন তখন ২.৫% চার্জ (এটা হালকা কমবেশী হতে পারে ব্যাংকভেদে) কেটে নেয়া হয় merchant (দোকানদারের) কাছ থেকে। তো চিন্তা করুন, যেখানে একটা লোনের ইন্টারেস্ট ৯% বছরে: অর্থাৎ ব্যাংক ১০০ টাকা ১ বছর বা ৩৬০ দিন (ব্যাংকের বছর ৩৬০ দিনে) খাটিয়ে ৯ টাকা পাচ্ছে সেখানে ১০০ টাকা average এ ৩০ দিন খাটিয়ে ২.৫ টাকা পাচ্ছে তাহলে সে হিসেবে বছরে ৪২ টাকা শুধু চার্জেই পাচ্ছে। সাধারণ লোনের ক্ষেত্রে, ঋণের টাকা বাংলাদেশে ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে ফেরত আনতে পারে না, এটার মনিটরিং ও বিতরণের জন্য অনেক অপারেটিং কস্ট আছে, ফান্ড কস্ট আছে যেগুলো ৯ টাকা হতে বাদ গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে লস হয়। তো যেখানে এত লাভ ব্যাংকগুলোতে চাবেই যত উপায়ে সম্ভব সুবিধা দিয়ে কার্ড বিক্রি করতে।
চিত্রে ক্রেডিট কার্ডের বিজনেস মডেল
বিজনেস মডেলটা আরেকটু ভালোভাবে বুঝার জন্য উপরের চিত্রটা ব্যবহার করা হয়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ইসুয়ার ব্যাংক হলো যার কাছ থেকে আপনি ক্রেডিট কার্ডটা পেয়েছেন। আচ্ছা, এরপর দোকানদার যে আপনার কার্ড থেকে টাকা নিবে তার তো একটা মেশিন লাগবে ঠিক না। তো merchant Bank হলো যে, দোকানদারকে মেশিনটা দিয়েছে, এটা আপনি যে ব্যাংক থেকে কার্ড নিয়েছেন সে একই ব্যাংক হতে পারে আবার ভিন্ন কোন ব্যাংকও হতে পারে, সমস্যা নাই। সবগুলো ব্যাংক কার্ড নেটওয়ার্ক (মূলত VISA, MasterCard, AmericanExpress) এর সাথে যুক্ত থাকে। তো যখনই ট্রানজেকশন হয় সে ২.৫% এর অল্প কিছু merchant Bank পায়, বেশীরভাগটা Issuing Bank পায় এবং বাকি সামান্য একটা অংশ Card Network পায়।
latest video
news via inbox
Nulla turp dis cursus. Integer liberos euismod pretium faucibua
